সিদ্ধান্তে স্বাগতম – বিজ্ঞানসম্মত অভিভাবকত্বের গাইড

সাবস্ক্রাইব
অনুসরণ করুন :
ট্রেন্ডিং
শিশুর খাবার (৬ মাস+) পড়তে সময়: ৪ মিনিট

ফোন ছাড়া খায় না? জোর না করেই টডলারের মিলটাইম শান্ত করার উপায়

লিখেছেন Mostak Hossain
ফোন ছাড়া খায় না? জোর না করেই টডলারের মিলটাইম শান্ত করার উপায়

পড়তে সময়: ৪ মিনিট

একজন বাচ্চার হাতে ফোন, আরেকজন পেছনে প্লেট নিয়ে ছুটছে। বাচ্চা মুখ খোলে তো গেলে না, গিললে আবার ফেলে দেয়। প্রতিটি খাবারের সময় ক্লান্তিকর যুদ্ধে পরিণত হয়। আর মনে ভয়, “এভাবে না খেলে ওর বৃদ্ধি ঠিক হবে কি?”

প্রথমে বলে রাখি, এটা আপনার একার সমস্যা নয়, আর আপনি খারাপ অভিভাবকও নন।

টডলারের খিদে একদিন বেশি, একদিন কম কেন

এক-তিন বছর বয়সে বাচ্চার বৃদ্ধির গতি শিশুকালের চেয়ে ধীর হয়ে আসে। তাই খিদেও কমতে পারে। একদিন সে প্রচুর খায়, পরদিন প্রায় কিছুই খায় না। এটা বেশ সাধারণ। এছাড়া এই বয়সে বাচ্চারা নিজের পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশ করতে শেখে। “না” বলা তার স্বাধীনতার অংশ।

একটি ভালো পদ্ধতি হলো একদিন বা এক বেলা নয়, গোটা সপ্তাহ ধরে বাচ্চার খাওয়া দেখা।

স্ক্রিন দেখিয়ে বা জোর করে খাওয়ালে কী হয়

গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে:

  • স্ক্রিন দেখিয়ে খাওয়ালে বাচ্চা খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা নিজের পেট ভরার ইশারা কম খেয়াল করে। এতে সময়ের সঙ্গে খাওয়ার অভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • জোর করলে বা চাপ দিলে অনেক বাচ্চা খাবারের প্রতি আরও বিরক্ত হয়ে ওঠে। এতে তার নিজের ক্ষুধা-তৃপ্তি বোঝার ক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে।

এসব গবেষণার বেশির ভাগই পর্যবেক্ষণভিত্তিক। অর্থাৎ সম্পর্ক দেখা গেছে, তবে এটাই একমাত্র কারণ, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই এটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে নিন, ভয় হিসেবে নয়।

জোর না করে শান্ত মিলটাইম: বাস্তব উপায়

গবেষকরা যাকে বলেন “রেসপনসিভ ফিডিং” (বাচ্চার ইশারা বুঝে খাওয়ানো), তার মূল কথা সহজ:

  1. দায়িত্ব ভাগ করুন। কী খাবার, কখন ও কোথায় খাবে, সেটা আপনি ঠিক করবেন। কতটা খাবে, সেটা বাচ্চা ঠিক করবে।
  2. নির্দিষ্ট সময় ও জায়গা। পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে, টেবিলে বা মেঝেতে বসে, স্ক্রিন ছাড়া।
  3. অল্প পরিমাণ দিন, চাইলে আরও চাইবে।
  4. নতুন খাবার বারবার পরিবেশন করুন, চাপ ছাড়া। অনেক সময় একটি খাবার গ্রহণযোগ্য হতে বহুবার সামনে আসতে হয়।
  5. খাবারের মাঝে সারাদিন দুধ, জুস বা বিস্কুট না দিলে খাবারের সময় খিদে লাগে।
  6. খাবারকে পুরস্কার বা শাস্তি বানাবেন না। “ভাত খেলে ফোন পাবে” জাতীয় কথা এড়ান।
  7. নিজে খান। বাচ্চারা বড়দের দেখে শেখে।
  8. ২০–৩০ মিনিটের মতো সময় দিন, তার পর খাবার তুলে নিন, কোনো রাগ বা বকা ছাড়াই।

প্রথম কয়েক দিন কঠিন লাগবে, বিশেষ করে ফোনের অভ্যাস থেকে সরে আসতে। কিন্তু ধৈর্য ধরলে অনেক পরিবার পরিবর্তন দেখতে পান।

“একটু মুখে গুঁজে দাও না” বলা আত্মীয়দের সামলানো

দাদি-নানি বা ফুপুরা ভালোবাসা থেকেই বলেন। এভাবে বলতে পারেন:

  • “ও আজ একটু কম খাচ্ছে, ডাক্তার বলেছেন জোর না করতে। কাল আবার দেখব।”
  • “আমরা চেষ্টা করছি ও নিজে খেতে শিখুক, এটা ওর ভালোর জন্যই।”

সম্ভব হলে নিজেই আগে বাচ্চাকে খাইয়ে ফেলুন। তাঁদের সামনে নিরাপত্তাহীনতা কম থাকলে চাপও কম লাগে।

কখন ডাক্তার দেখানো দরকার

  • ওজন বা উচ্চতা ঠিকমতো বাড়ছে না
  • খুব সীমিত কয়েকটি খাবারেই আটকে আছে
  • গিলতে বা চিবাতে অসুবিধা
  • খাওয়ার সময় বারবার বমি, কাশি বা বিষম
  • ঘন ঘন অসুস্থ হচ্ছে, অতিরিক্ত দুর্বল

এ ক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলুন। বৃদ্ধির চার্ট (গ্রোথ চার্ট) মিলিয়ে দেখা এখানে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য উপায়।

মনে রাখার মতো

  • টডলারের খিদে ওঠানামা করা স্বাভাবিক।
  • স্ক্রিন ও জোর, দুটোই এড়িয়ে চলুন। কেন, সেটা বাচ্চার ইশারা বুঝে খাওয়ানোর নীতিতে স্পষ্ট।
  • আপনি কী দেবেন সেটা ঠিক করুন, কতটা খাবে সেটা বাচ্চাকে ঠিক করতে দিন।
← সব লেখাসর্বশেষ সব লেখায় ফিরে যান পরবর্তী লেখা →নিয়ম চাপিয়ে নয়, সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঠিক করুন